জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসার প্রতিষ্ঠা কোনো সাময়িক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী দ্বীনি ও সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখার এক মহৎ প্রয়াস। এর মূল উদ্দেশ্য কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শিক্ষিত, আদর্শবান ও আল্লাহভীরু প্রজন্ম গঠন করা।
১. কুরআন হিফজ করা ও সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া:
আল্লাহ বলেন, “وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ” — (সূরা আল-কামার, আয়াত ১৭) “আমি কুরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কেউ কি আছে উপদেশ গ্রহণকারী?”
২. উত্তম চরিত্রবান মানুষ তৈরি করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ” — (মুয়াত্তা মালিক) “আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্র পরিপূর্ণ করার জন্য।”
৩. ইলম হাসিল ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ: “خَيْرُكُمْ مَن تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ” —(সহীহ বুখারী: ৫০২৭) “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো, যে কুরআন শিখে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।” ব্যাখ্যা:
ক). কুরআনের মর্যাদা: আল্লাহ তাআলার শেষ কিতাব, পবিত্র কুরআন, মানব জাতির জন্য হেদায়াত, আলো ও মুক্তির পথ। এই কুরআন শেখা ও শিক্ষা দেওয়ার কাজ সর্বোত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
খ). ব্যক্তিগত কল্যাণ: যে ব্যক্তি কুরআন শেখে, সে নিজের অন্তরকে আলোকিত করে, গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং আখিরাতের সফলতার পথে অগ্রসর হয়।
গ). সামাজিক কল্যাণ: যে অন্যকে কুরআন শিক্ষা দেয়, সে সমাজে নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির চর্চা বিস্তার করে। তার মাধ্যমে অনেক মানুষ উপকৃত হয়।
ঘ). উত্তম ব্যক্তি কে? এই হাদীসের মাধ্যমে রাসূল ﷺ আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, একমাত্র ধন-সম্পদ, বংশ, কিংবা দুনিয়াবি মর্যাদা নয়— বরং উত্তমতা নির্ধারিত হয় কুরআনের সাথে সম্পৃক্ততা দিয়ে।
ঙ). কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব: এই হাদীস দ্বীন শিখা ও শেখানোর একটি বিশাল ফজীলত তুলে ধরে, যা শিক্ষকতা ও তালিমকে একটি ইবাদতের মর্যাদা দেয়।
বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে কেবল সাধারণ শিক্ষা নয়, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা বেশি প্রয়োজন। জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসা সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে নিচে উল্লেখিত উদ্দেশ্য নিয়ে:
দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষার সমন্বয়: বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এমন শিক্ষাক্রম চালু করা যাতে ছাত্ররা আধুনিক জ্ঞান অর্জন করেও ইসলামী মূল্যবোধে অটুট থাকে।
হিফজুল কুরআনের মাধ্যমে আত্মিক উন্নয়ন: মেধাবী ও মননশীল ছাত্রদের কুরআন হিফজ করিয়ে তাদের আত্মশুদ্ধির পথে পরিচালিত করা।
নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা বিস্তার: বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের বিপরীতে হিফজুল কুরআনের পাশাপাশি আদর্শ আখলাক গঠনে গুরুত্ব প্রদান।
জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা: দেশপ্রেমিক, নীতিবান ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা—যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসার উদ্দেশ্য কেবল হিফজ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীনি, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে ছাত্ররা হবে কুরআনের বাহক ও সমাজের আলোকবর্তিকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই মহৎ প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করুন—আমিন।–জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসা (এতিমখানা সমন্বিত একটি প্রতিষ্ঠান), কুলধুরুয়া, নান্দাইল, ময়মনসিংহ।
